ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং পদে নিয়োগপত্র দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী শাকিল আহমেদ। তবে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাকিল আহমেদ ২০২২ সাল থেকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘কুক-মশালচি’ পদে কর্মরত রয়েছেন। প্রতি বছর নতুন করে নিয়োগপত্র নিয়ে কাজ করতে হয়। তবে চলতি অর্থবছরে এখনো নিয়োগপত্র পাননি তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগপত্র নিতে গেলে তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে কাজে না আসার কথা বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন শাকিল।
শাকিল আহমেদের অভিযোগ, হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত আটজন কর্মচারীর কাছেই নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিতে পারছেন, তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে; আর যাঁরা দিতে পারছেন না, তাঁরা নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পান্না খাতুন নামের একজন কর্মচারী ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আয়া পদ থেকে টিকিট ক্লার্ক পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁর কাছে পান্নার স্বীকারোক্তি রয়েছে বলেও দাবি করেন শাকিল।
এদিকে, শিমু খাতুন নামে আরেক টিকিট ক্লার্ক অভিযোগ করেন, তাঁর কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি ৪০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে নিয়োগপত্র না দিয়ে ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তাঁর দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
শাকিল আরও জানান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা/মন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা নিয়োগপত্র পেতে ঘুষ দাবির বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন। তখন তিনি কাউকে ঘুষ না দিতে এবং ঘুষ দাবি করা হলে তাঁকে জানানোর পরামর্শ দেন।
শাকিল বলেন, এর আগে নিয়োগ পেতে কাউকে কোনো ঘুষ দিতে হয়নি। হেলেনা আক্তার নিপা যোগদানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অনিয়ম করে যাচ্ছেন। এখন নিয়োগপত্র পেতেও আউটসোর্সিং পদের কর্মচারীদের টাকা দিতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আল ওয়াফা সিকিউরিটি সার্ভিসেস’-এর স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি নিয়োগের ক্ষেত্রে কারও কাছে টাকাপয়সা চেয়ে বা নিয়ে থাকে, তবে সেটা তাদের ব্যাপার।”
ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আমাদের সঙ্গে টাকাপয়সা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যদি টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”