নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু তামিমের মরদেহ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
১০ জুন বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার সময় উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর প্রায় পৌনে ২টার সময় উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশের মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মাছ ধরতে মেঘনা নদীতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজনরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।
এরপর বুধবার সকাল থেকে ভোলা থেকে আসা ডুবুরি দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে বিকেল পৌনে ৬টার সময় উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে কোস্টগার্ড তামিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। তবে বুধবার বিকেলে কোস্টগার্ড শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।