এক্সক্লুসিভ

রাজধানীতে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারী রিকসা

 

➡️তীব্র যানজটে নাকাল নাগরিকরা

➡️বিদ্যুত চুরিতে গ্যারেজ মালিকরা

➡️প্রশাসনের নেই নিয়ন্ত্রণে সঠিক নজরদারি 

 
 
দেশের প্রাণকেন্দ্র খ্যাত রাজধানীতে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। যার ফলে নিত্য যানজটের চরম কবলে পড়তে হচ্ছে কর্মে যাওয়া সাধারন মানুষদের।  কর্মস্হানে সঠিক সময়ে যেতে পারছেন না এমন অভিযোগ প্রতিনিয়ত। অনেকে যানজটের কারনে দীর্ঘপথ দীর্ঘসময়ে পায়ে হেটে অফিসে যান বা বাসায় ফিরে আসেন। জ্যাম ও ভীরের নিয়তিকে মেনে শত প্রতিকুলতায় ক্ষোভের সাথে চলতে হচ্ছে রাজধানীর নাগরিকদের। জানা যায়, অনেক প্যাডেল রিকশায় মোটর সংযোজন করে, কোনোটি স্টিল বড়ি রিকশা, আবার অটোরিকশার আদলে ইজি বাইক চলছে নগরের রাস্তাগুলোতে। দিনে দিনে বেড়ে রাজধানীসহ দেশের সড়কে সয়লাব এসব ব্যাটারী রিকশা।  দ্রুতগতির এসব হালকা বাহনে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ অপচয় তো আছেই। বিদ্যুত চুরির অভিযোগও রয়েছে অসংখ্য গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধে। 
এসব রিকসা রাজধানীর কেন্দ্রে দেখা না গেলেও আশপাশের অনেক মূল সড়কগুলোতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় সব গলিতে ছুটছে হরণ বাজাতে বাজাতে। এতে অনুমোদিত পায়ে চালিত প্যাডেল রিকশা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। জানা যায়, এসব অটো ব্যাটারী রিকশার কোনো পরিসংখ্যান নেই। সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পায়েচালিত রিকশার পরিসংখ্যান আছে। তাতে দেখা যায়, রাজধানীতে পায়েচালিত বৈধ রিকশার চেয়ে অবৈধ রিকশার পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, তাদের কাছে নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। আর দক্ষিণ সিটিতে সেই সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। দুই সিটি মিলিয়ে বৈধ রিকশা ৭৯ হাজার ৫৪৭টি।
তবে ২০২৪ সালে বুয়েটের একটি গবেষণা বলছে, রাজধানীতে চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। প্রায় ১০ লাখ অবৈধ রিকশা চলছে রাজধানীতে। এখনতো এর সংখ্যা অগুনতি।  জানা যায়, ২০১৪ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। এরপর ২০১৭ সালে এসব পরিবহন বন্ধে আরেক দফা নির্দেশনা আসে হাই কোর্টের। ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর অটোরিকশা বন্ধ ও আমদানি নিষিদ্ধ করে আবারও নির্দেশনা দেন হাই কোর্ট।  বিভিন্ন সময় সিটি করপোরেশনও এগুলো বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন। তবে গত ৫ আগষ্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ব্যাটারী রিকসার চলাচলে নেই কোন নিয়ন্ত্রণ। মুল সড়কেই দাপটের সাথে চলছে অগনিত।
জানা যায়,লাইসেন্সবিহীন রিকশার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন নামের অন্তত অর্ধশতাধিক সংগঠন।
এক সমীক্ষায় দেখা যায়,  ব্যাটারিচালিত রিকশা রাজধানীতে দিনে দিনে শুধু বেড়েই চলেছে। রাজধানীর শনিরআখড়া এলাকার এক রিকশামালিক জানান, তাদের এলাকায় ১০ হাজারের বেশি অটোরিকশা চলছে। দিনে দিনে প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
 
রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও একই অবস্থা। উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, কুড়িল, ভাটারা, জুরাইন, রামপুরা, বনশ্রী, মুগদা, বাসাবো, মিরপুর, গাবতলি, মোহাম্মদপুর এলাকায় রয়েছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত রিকশা। তবে এসব এলাকায় কত সংখ্যক রিকশা রয়েছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই কারও কাছে। 
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পায়েচালিত রিকশার গ্যারেজেই দেখা মিলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার। সাধারণ রিকশা মালিকরা বাড়তি আয়ের জন্য ঝুঁকছেন ব্যাটারিচালিত রিকশার প্রতি। সাধারণ রিকশায় এক দিনে রিকশামালিকের জমা ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এই আয় প্রায় তিন গুণ।
রিকশামালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি সাধারণ রিকশা তৈরিতে খরচ হয় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এরপর লাইসেন্স নিতে খরচ হয় প্রায় একই রকম। কিন্তু ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করা যায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা। তাতে নেই লাইসেন্স নেয়ার ঝামেলা। সহজে চালানো যায়। তাই অনেক সাধারণ মানুষও এসব রিকশা কিনে কারও হাতে ধরিয়ে দিয়ে পথে নামাচ্ছেন।
এসব রিকশা সাধারণত ট্রাফিক পয়েন্টগুলো এড়িয়ে চলে। ট্রাফিক পুলিশ টু করলে বেশী অর্থ ব্যায় করে ছাড়িয়ে আনতে।
এসব অটোরিকশার সবচেয়ে ভীতিকর দিক হলো দ্রুত ছুটে চলা। শিশু-কিশোরদেরও দেখা যায় এসব রিকশা চালাতে। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না বলে যে কেউ যখন-তখন নেমে পড়ে ব্যাটারি রিকশা নিয়ে। আর ‘মোটরগাড়ি’ পেয়ে অল্পবয়সী চালকরা বাউলি কেটে ছুটে চলে অটোরিকশা নিয়ে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত।
কামরাঙ্গীরচর, গাবতলি, মোহাম্মদপুর এলাকায় অটোরিকশার দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত। জুরাইন এলাকার ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন  বলেন, ‘এলাকার সরু রাস্তার মধ্যে এরা যেভাবে চালায়, তা খুব ভয়ানক। পথচারীদের ওপর রিকশা তুলে দেয়ার পাশাপাশি অন্য গাড়ি ও রিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও হামেশাই ঘটছে এই অটোরিকশার।


সম্পর্কিত খবর