প্রায় ১৭ বছরের দীর্ঘ কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন।
মুক্তির পর কারাগার প্রাঙ্গণেই আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সরাসরি তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে।
২০০৮ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন আবদুস সালাম পিন্টু। বিচারের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এ মামলায় বিচারিক আদালত পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
তবে সম্প্রতি হাইকোর্টে এ মামলার রায়ের আপিলে পিন্টুসহ বেশ কয়েকজন খালাস পান। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পেলেন।
টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের রাজনীতিতে আবদুস সালাম পিন্টু একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার দক্ষ নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।
পিন্টুর মুক্তিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাকে বরণ করতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অপেক্ষা করছেন। দলের এক নেতা বলেন, “আবদুস সালাম পিন্টুর মুক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিজয় নয়, এটি আমাদের দলের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।”
মুক্তির পর দলের সঙ্গে তার নতুন ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পিন্টু। কারাগারে কাটানো দীর্ঘ সময় তার জন্য কষ্টকর হলেও তিনি বলেন, “এই সময়ে আমি দেশের জন্য, দলের জন্য এবং জনগণের জন্য নতুনভাবে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেছি।”
এখন তার মুক্তি বিএনপির জন্য কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় শক্তি হতে পারে।
বায়ান্ন/এএস