নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণ করছে এমন ২০টি শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত এক রিটে সম্পূরক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এই আদেশ দেন।
এসব শিল্প কারখানায় ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট টিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা নির্গত বর্জ্যজল শোধন প্ল্যান্ট) না থাকায় এই আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি ২০টি শিল্প কারখানার মধ্যে ১৮টির নাম জানিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে— খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজী রাসুল ডাইং।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর হাইকোর্ট প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছে, এই ১৮টিসহ মোট ২০টি শিল্প কারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। ফলে একটি সম্পূরক আবেদন করে এসব শিল্প কারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলাম। আদালত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে এসব শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ৩০ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।”
এই আইনজীবী বলেন, “পরিবেশ আইন অনুসারে পরিবেশ লাইসেন্স বা ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে পরিবেশ ছাড়পত্রের অন্যতম শর্ত হচ্ছে, ইটিপি স্থাপন না করে কোনো শিল্পকারখানা চালানো যাবে না। কিন্তু শিল্প মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে শীতলক্ষ্যা দূষণ করে আসছিল। মনজিল মোরসেদ জানান, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যার পাড়ে ইটিপি ছাড়া শিল্পকারখানা পরিচালনা করে ব্যাপকমাত্রায় দূষণ ঘটাচ্ছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা এমন প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’র পক্ষে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়। এই রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গত বছর ৬ মে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। শীতলক্ষ্যার দূষণ রোধে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দূষণের জন্য দায়ী শিল্পকারখানা চিহ্নিত করতেও নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশ অনুসারে গত বছর ৮ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন শিল্পকারখানা সম্পর্কে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।