ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ মে ২০২৪, ৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
সিলেট সিটি নির্বাচন

জাপা প্রার্থী বাবুলের বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ টাকা

সিলেট ব্যুরো: | প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২৫ মে ২০২৩ ১২:৩৭:০০ অপরাহ্ন | সিলেট প্রতিদিন



সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম বাবুল। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। স্বশিক্ষিত বাবুল পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমানে তাঁর কাছে নগদ প্রায় ৫৩ লাখ টাকা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামার তথ্য বলছে, নগরীর সাগরদিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম ওরফে বাবুল স্বশিক্ষিত। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তাঁর নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে একটি মামলা চলমান। সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে আমলে নেওয়া মামলাটির তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া আরও তিনটি ফৌজদারি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে ছিল, যেগুলো থেকে আদালতের মাধ্যমে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।

নজরুল ইসলাম বাবুল পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি পাথর আমদানিকারক, ফিজা এন্ড কোং (প্রা.) লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেসার্স ফিজা এক্সিম এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার এবং দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক।

তাঁর বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৯ টাকা। তন্মধ্যে ‘বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া’ খাত থেকে তিনি আয় করেন ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০ টাকা। তিনি কোম্পানি থেকে পরিচালক ভাতা বাবদ বছরে ৪০ লাখ টাকা পান। ব্যাংক ইন্টারেস্ট থেকে বছরে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং অংশীদারী ফার্ম থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৫০ টাকা পান তিনি। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের কোনো আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নজরুল ইসলাম বাবুলের কাছে নগদ ৫২ লাখ ৮৯ হাজার ১১০ টাকা আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর নামে জমা আছে ৫৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৯ টাকা। তাঁর কোম্পানি শেয়ার আছে ১৫ লাখ টাকার।

বাবুলের নামে ১৫টি গাড়ি আছে। তন্মধ্যে বিএমডাব্লিউ ১টি, টয়োটা প্রাডো ১টি, কার্গো ভ্যান ৪টি, কাভার্ড ভ্যান ৮টি এবং মোটরসাইকেল আছে ১টি। তাঁর নামে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা স্বর্ণালঙ্কার এবং ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র আছে।

বাবুলের স্ত্রীর কাছে নগদ ১১ লাখ ১২ হাজার টাকা আছে। স্ত্রীর নামে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার এবং ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র আছে।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে নজরুল ইসলাম বাবুলের নামে বিপুল অকৃষি জমি আছে, যার পরিমাণ ১৩০ দশমিক ২৮ শতক। তন্মধ্যে বাগবাড়িতে দুটি দাগে ১১ শতক, খাদিমপাড়ার আটগাঁওয়ে ৩০ শতক, আখালিয়ায় দুটি দাগে ১৫ শতক এবং বড়শালায় তিনটি দাগে ৭৪.২৮ শতক জমি রয়েছে। যৌথ মালিকানায় আখালিয়ায় ১৫ শতক জমির তথ্য দিয়েছেন বাবুল, যার মধ্যে তাঁর অংশ ৭.৫ শতক।

সিলেট নগরীর তেলিহাওর এলাকাস্থ সিলভ্যালি টাওয়ারে ২৩৪০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট আছে বাবুলের। এ ছাড়া বাগবাড়িতে ২০০ স্কয়ার ফিটের একটি ভবন, আখালিয়ায় ১১০০ স্কয়ার ফিটের টিনশেড বাড়ি, আখালিয়ায় ৭.৫ শতক জমির ওপর ১২০০ স্কয়ার ফিটের আধাপাকা টিনশেড বাড়ি এবং বড়শালায় ৫৪ শতক জমির ওপর আনুমানিক ১৮০০ স্কয়ার ফিটের একটি বিল্ডিং রয়েছে তাঁর।

নজরুল ইসলাম বাবুল যেমন বিপুল সম্পদের মালিক, তেমনি তাঁর নামে বড় অঙ্কের দায়-দেনা আছে। আইডিএলসি, সিলেট শাখায় তাঁর দায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৫২৩ টাকা। এ ছাড়া ফিজা এন্ড কোং (প্রা.) লি. থেকে তিনি ৪ কোটি ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৪ টাকা ঋণ নিয়েছেন।

এদিকে, প্রার্থীদের হলফনামায় কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।