নোয়াখালীর কবিরহাটে আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতাকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) নিহতের বোন লাভলী বেগম বাদী হয়ে কবিরহাট থানায় মামলাটি করেন। এতে দুজনকে নামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আজাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, মরদেহের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহত আজাদ দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আজাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। মাদক সেবনে বাধা দেওয়া বা আড্ডাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন এবং মরদেহ ডোবায় ফেলে গুমের চেষ্টা চালান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুজন পলাতক রয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, "আজাদ স্থানীয় ক্লাবঘর এলাকায় ব্যবসা করতেন, পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও একাধিকবার তিনি হামলার শিকার হয়েছেন।" তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য ও একই বাড়ির বাসিন্দারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।