মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাইবার অপরাধের মামলায় সরকারি গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী বাবুল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মৌলভীবাজার জেলা জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্স কমিটির দপ্তর সম্পাদক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু।
বাবুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার একদল পুলিশ তাদের বাসায় যায়। পুলিশ সদস্যরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কথা বলে বাবুলকে থানায় যেতে বলেন।
আনোয়ারা বেগমের ভাষ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত বাবুল তখন তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সকালে নিজে থানায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে পুলিশ তার কথা না শুনে তাকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর বাবুলকে হাজতখানায় (লকআপ) রাখা হয় এবং সেখানে তাকে মারধর করা হয়। সন্তানদের নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত থানার সামনে অপেক্ষা করলেও স্বামীর গ্রেপ্তারের কারণ কিংবা তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। পরে বাবুলকে মৌলভীবাজার সদর থানায় পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
স্বামীর মুক্তি দাবি করে আনোয়ারা বেগম বলেন, বাবুল নির্দোষ এবং তাকে ‘মিথ্যা মামলায়’ ফাঁসানো হয়েছে। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও বাবুল সক্রিয় ছিলেন এবং সে সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন।
আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, “আমার স্বামীকে স্বৈরাচারী কায়দায় আটক করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। তাকে মারধর করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।” তিনি স্বামীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।
বাবুলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবুলের মুক্তি দাবি করেছেন।
বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাবুলের গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার মুক্তি দাবি করেন।
শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব তারেক মাহফুজ বাবুলের গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, বাবুল একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বাবুল রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহীন আহমেদ বলেন, বাবুল একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রস্বীকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’। তার গ্রেপ্তারে পরিবার, বিশেষ করে সন্তানরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী বলেন, বাবুল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি না করে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাইবার অপরাধের মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, “সাইবার অপরাধ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে বাবুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার অপরাধ মামলার ধারা, মামলার বাদীর পরিচয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।