রংপুর

পঞ্চগড়ে চিকিৎসকের অবহেলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু, বিচার চেয়ে সিভিল সার্জন বরফাতে লিখিত অভিযোগ

যথাসময়ে চিকিৎসাসেবা না দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ে। এ ঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ন্যায়বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগমের ভাসুর (স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের বড় ভাই) রফিকুল ইসলাম পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁদের বাড়ি জেলার আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ধনুপাড়া (দাড়খোর) এলাকায়।

স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. রিপা রোগীকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দাবি করেন রোগী সুস্থ আছেন ও চিকিৎসকদের হয়রানি করার জন্য অসুস্থতার অভিনয় করছেন। এমনকি মুমূর্ষু রোগীকে অক্সিজেন দিতেও অস্বীকৃতি জানান এবং স্বজনদের সঙ্গে দুব্যবহার করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) ফাতেমা বেগম হঠাৎ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমার অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মচারীরা কোনো কথা শোনেননি। স্বজনদের আকুতি উপেক্ষা করে উল্টো ধমক দিয়ে রোগীকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় সমাজসেবক সাব্বির ও মকবুল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. হুমায়ুন কবীরকে ফোনে বিষয়টি জানান। তিনি প্রথমে হাসপাতালে আসতে চাইলেও পরে আর আসেননি। দীর্ঘ সময় পর তিনি জানান, রোগীকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করা হয়েছে।

এরপর ৭ আগস্ট সকালেই তাঁকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার মারাত্মক অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে ফাতেমা বেগম মারা যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ড. রিপার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, "হাসপাতালে আসার পর রোগীর অবস্থা ভালো ছিল। পরে অবনতি হলে আমরা তাঁকে ঠাকুরগাঁও ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তাই এই মৃত্যুর দায় আমাদের নয়।"

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, "অভিযোগটি এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।"

 


সম্পর্কিত খবর