বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের জাফ্রাখালী গ্রামের মৃত নুরুল হক হাওলাদার গংদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তার পুত্র মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বরগুনা প্রেসক্লাবে গত ১০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন তার ভাই ইউসুফ হাওলাদারের স্ত্রী আসমা বেগম।
উল্লেখিত সংবাদের প্রতিবাদে মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার আজ (৩০ নভেম্বর) রবিবার দুপুরে বামনা সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, "আমার পিতার দুই সংসার। আমরা তিন (৩) ভাই ও ছয় (৬) বোন এবং আমার ছোট মা। আমাদের মাতা ও পিতা প্রায় ৩২ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তারপর থেকে আমরা প্রায় ২৮ বছর যাবৎ আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা করে যার যার অংশ ভোগ-দখল করছি। কিন্তু হঠাৎ করে আমার ভাই ইউসুফের স্ত্রী আসমা বেগম বরগুনা প্রেসক্লাবে আমার বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেন। যা দৈনিক 'গ্রামনগর বার্তা' পত্রিকায় ২৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। যেখানে উল্লেখ আছে—টাকার প্রভাবে তদন্ত প্রভাবিত করা, পারিবারিক ঐক্য বিনষ্ট করে সম্পত্তি এককভাবে ভোগ-দখলের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হুমকি প্রদান, অপপ্রচার এবং ভয়ভীতি দেখানো, আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করা।"
তিনি আরও বলেন, "উল্লেখিত বিষয়ে আমার দ্বারা আমার ভাই ও তার পরিবার কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। বরং আমার স্ত্রী মমতাজ বেগম ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তিন (৩) বারের নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এবং আমি ১নং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক দফাদার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সব কিছু মিলে আমাদের মান-সম্মানের হানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ হতে উল্লেখিত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "১০ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে ১১ তারিখে বাড়ির বিভিন্ন জমি হতে মো. আনেছ খাঁ এবং মো. আল আমিন নামে দুইজন ব্যক্তির কুপরামর্শ নিয়ে গাছের সুপারি সহ অনেক কিছু নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে আমার কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হলে মো. আনেছ খাঁ এবং মো. আল আমিন দায়বদ্ধ থাকিবে।"
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পূর্বের সালিশদার মো. ইউনুস আলী বলেন, "আমরা ২০২১ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মৃত নুরুল হক হাওলাদার গংদের জমি অংশ হিসেবে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দেই। কিন্তু বর্তমানে ইউসুফ হাওলাদার, মজিবুর হাওলাদারের অংশের জমি জোরপূর্বক দখল করেছে।"
এ বিষয়ে আসমা বেগমের মুঠোফোনে কল দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং স্থানীয় লোকজন জানান, তিনি ঢাকায় আছেন।