সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ, নৈতিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ এবং আলোকিত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। জুয়া, মাদক, পতিতাবৃত্তি ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ, প্রশাসনিক নজরদারি এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বাদ এশা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ‘আলোকিত শ্রীমঙ্গল ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে ‘সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ পরিকল্পনা ও আলোকিত শ্রীমঙ্গল রূপায়ণ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা আব্দুর রকিব হেলালের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন কারী মোহাম্মদ আব্দুল মুমিন। শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন কারী মাওলানা মোহাম্মদ মোজাহিদ আলী।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মুহিন আহমদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নেন শ্রীমঙ্গল আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা মাহবুব আহমদ সালেহ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ তুহিন চৌধুরী, নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. মঈনুল ইসলাম জাকির, সাপ্তাহিক পূর্বদিক-এর নির্বাহী সম্পাদক সালাহ উদ্দিন ইবনে শিহাব এবং নবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক মো. মোদাচ্ছির আলী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আব্দুল মন্নান, জসিম উদ্দিন, মো. আক্তার হোসেন, মো. আব্দুল ওয়াসিদ, মো. সালাহউদ্দিন মাস্টার ও আকবাল হোসেন রনি প্রমুখ। সভায় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জুয়া, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ
আলোচনায় সামাজিক অবক্ষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জুয়া, মাদক, পতিতাবৃত্তি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা এবং তরুণ প্রজন্মের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসে।
বক্তারা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝানোর মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের পাহাড় ও বনাঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা রিসোর্ট, রেস্টহাউস ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পতিতাবৃত্তি, মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও আলোকিত শ্রীমঙ্গল গড়ে তোলা সম্ভব।