বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রয়াত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবরারের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশ্বাস দেন।
আবরার ফাহাদ বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ভারত-বাংলাদেশের অসম চুক্তি ও পানি বণ্টন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্মম নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তখনকার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। হত্যা মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়।
আবরারের বাবা বলেন, হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা প্রয়োজন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
সাক্ষাতে আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এর নাম আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ ও পাশের মসজিদের নির্মাণকাজে সহযোগিতার অনুরোধ করা হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানায় পরিবার।
আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বুয়েটে আবরারের নামে একটি হল নির্মাণ এবং পাঠ্যবইয়ে তার ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।
সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন আবরার ফাহাদ। এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।