ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১৬ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার পরে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে উপজেলার হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন চুয়াডাঙ্গার রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। অন্য দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জন হলেন হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫)। তারা চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকারীরা ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলেই ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে : ফরিদপুরের মধুখালীতে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ স্বেচ্ছাসেবীর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই মাগুরার বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি), মাগুরা দলের সদস্য। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনায় আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন— মাগুরা সদর উপজেলার বারাসিয়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে নূর মোহাম্মদ আরিফ (২২), একই উপজেলার মালিক গ্রামের বাসার মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (১৮) এবং আঠারখাদা এলাকার আবু জাফরের মেয়ে তামান্না তাবাসসুম ঐশী (২৫)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় ব্যুরো বাংলাদেশের কার্যালয়ে জাগো ফাউন্ডেশনের ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের একটি সেমিনারে অংশ নিতে মাগুরা থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল ফরিদপুরে যায়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে। শেষে মাগুরায় ফেরার জন্য তারা বাসস্ট্যান্ডে যান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বাস না পেয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
পথে মধুখালীর আড়কান্দি সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর ৬ জনকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত অপর ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ৬ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম জানান, আহত ৩ জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ করিমপুর হাইওয়ে থানায় রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে ৩ তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাগুরায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রশিক্ষণ শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের সেই যাত্রা শেষ হওয়ায় শোকাহত পরিবারগুলোর পাশাপাশি ভিবিডির সদস্য ও পরিচিতজনেরাও গভীরভাবে মর্মাহত।