টপ নিউজ

দেশে ডিসেম্বরকেন্দ্রিক কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: আইজিপি

ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ দেখছেন না পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এর আগে কয়েকবার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।

 

 

অনলাইনে দলটির প্রচারণায়ও জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। তাই ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের ভূমিকা, বিতর্কিত ও পলাতক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন আইজিপি।

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন এর আগে বেশ কয়েকবার দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল।

 

কিন্তু পারেনি। তাদের সেই সক্ষমতা নেই।

তারা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) অনলাইনে যে ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে তাতে জনগণ কান দিচ্ছে না। সুতরাং দেশে ডিসেম্বরকেন্দ্রিক কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।’

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে পুলিশ কীভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে, এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আইনানুগ, নিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক ভূমিকা পালন করবে।

 

তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক অপতথ্য ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আইজিপি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সহিংসতা, ভয়ভীতি, অবৈধ দখল কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার কারণ না হয়, সে জন্য আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

পুলিশের ভেতর থেকে তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত সদস্যদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, চাকরিতে থাকা অবস্থায় যেসব পুলিশ সদস্য ভেতরের তথ্য বাইরে পাচার করছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

অতীতে দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেছেন, এমন অনেক পুলিশ সদস্য এখন পলাতক বলে উল্লেখ করেন তিনি। পলাতক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কর্মরত যেসব সদস্যের যোগাযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইজিপি।

 

পুলিশ বাহিনীতে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশে ষড়যন্ত্রকারীর সংখ্যা হাতেগোনা। তবে কোনো ষড়যন্ত্রকারীই আইনের বাইরে থাকবে না।

 

ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ১৭ বছরে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের চাকরি থাকবে না-এমন গুজব ছড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন তিনি। আইজিপি বলেন, এ ধরনের গুজব যারা ছড়াচ্ছে, তাদেরও চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পুলিশের পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা এবং বাহিনীর ভেতরে তথ্য পাচার ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করাকে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন পুলিশের এই মহাপরিদর্শক।

 



সম্পর্কিত খবর