ইউএনও বললেন, "যিনি সড়কে মাটি ফেলে কাদা সৃষ্টি করেছেন, তাঁকে দিয়েই ওই কাদা পরিষ্কার করাতে হবে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে কী করবে? সড়কের ওই কাদায় চলাচলকারী যানবাহন পড়ে শত মানুষের বিপদ হলেও তাঁর কিছুই করার নেই।" শনিবার কালীগঞ্জ-কোলা সড়কে বৃষ্টির পানিতে মাটি-কাদার পিচ্ছিলতায় একের পর এক দুর্ঘটনায় আহত বিপদগ্রস্তদের প্রতিকারের উত্তরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ ওই কথা বলেন। তিনি সড়কে মাটি ফেলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহে সহযোগিতাও চান। তবে পরবর্তীতে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলে গেলেও তারাও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতির দোহাই দিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে যায়। এদিকে এমন বিপদের মুহূর্তে ইউএনও ও ফায়ার সার্ভিস কোনো সহযোগিতা না করে এড়িয়ে গেলেও সেখানে দুর্ঘটনা রোধে সড়কে দাঁড়িয়ে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। মানবিক এই কাজে সাধারণ মানুষ গণমাধ্যমকর্মীদের বেশ প্রশংসা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকর্মী আরিফ মোল্লা জানান, শনিবার দুপুর দুইটার দিকে কোলা সড়কের খ্রিষ্টান মিশনের সম্মুখে সড়কের কাদা ও পিচ্ছিলতায় একের পর এক যানবাহন দুর্ঘটনার পতিত হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে তিনিসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান প্রায় ৫০০ মিটার পাকা সড়কের ওপর পড়ে থাকা মাটি বৃষ্টিতে ভিজে পিচ্ছিল কাদায় পরিণত হয়েছে। এ সময়ে সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ সকল যানবাহন ওই স্থানে এসেই দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ১৫টি যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে গাড়ির চালকসহ ২৫-৩০ জন কমবেশি আহত হন।
দুর্ঘটনা কবলিত ভুক্তভোগী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জনি জানান, তাঁর বাড়িতে ঢাকা থেকে জীবন চৌধুরী ও সজিব বিশ্বাস নামে দুজন মেহমান এসেছিলেন। দুপুরে তাঁরা বাড়ি ফিরতে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন। পথে ওই স্থানে কাদার পিচ্ছিলতায় দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হন। তাঁদের মতো একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা আরও জানান, গত রাতে মাটিখেকোরা পাশের মাঠ থেকে মাটি কেটেছিল। সেই মাটি ট্রাকে করে নেওয়ার সময়ে রাস্তায় পড়ে জমা হয়ে ছিল। শনিবার দুপুর ১টার দিকে বৃষ্টির পরপরই দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করে। এমন অবস্থায় তাঁরা উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে সড়কের কাদা অপসারণে অনুরোধ করলেও কেউই সহযোগিতা করেননি। পরে মানবিক কারণে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক পথচারীদের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষায় নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন।