দেশে অতিবৃষ্টির কারণে হঠাৎ কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রথম চালানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ টন ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাতে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। এই চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'শিমু এন্টারপ্রাইজ' এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট 'মেসার্স শিমু শিপিং লাইন্স'।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক কাঁচা মরিচ নিয়ে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আমদানিকারক শাহজাহান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তাঁর মোট খরচ প্রায় ১৩৫ টাকা পড়েছে। সামান্য লাভ রেখে বাজারে বিক্রি করা হবে। তিনি বলেন, আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য খালাসের জটিলতায় রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকেরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার রাত থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে সোমবার প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম কমে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের আশা, আমদানি বাড়লে বাজারে দাম আরও কমে আসবে।
আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত আমদানি মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা; অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সেই হিসাবে আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ৭৮ টাকা হওয়ার কথা। তবে আমদানিকারকদের দাবি—পরিবহন, শুল্কায়ন ও খালাসসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কাঁচা মরিচের আকাশচুম্বী দামে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাঁরা বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহসংকট মোকাবিলায় সরকার ভারত থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।