রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থান সঠিক বলে মনে করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতারা। সরকারের এই অবস্থান নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কোনো সমালোচনা করা ঠিক হবে না বলে তারা মনে করেন।
ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে উত্থাপিত প্রস্তাবে পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ। ভারত, চীনসহ ৩৫টি দেশ এই অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে বিএনপিসহ কেউ কেউ সমালোচনা করেছে। তবে বিএনপির এই সমালোচনা করা ঠিক হয়নি বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা। সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থান সঠিক বলে তারা মনে করছেন।
ওই নেতারা বলেন, সরকার মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল রোহিঙ্গারা মুসলমান, এদের আশ্রয় দেওয়া উচিত। এখন আবার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করছে।
ওই নেতারা জানান, বাংলাদেশ সরকার কোনো যুদ্ধকেই সমর্থন করে না। আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে সরকার মনে করে। বাংলাদেশের এাই অবস্থান শান্তির পক্ষে। সরকারের এই অবস্থান কতটা যৌক্তি তা পরবর্তি সময়ে বোঝা যাবে বলেও তারা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। যে কোনো জায়গাতেই হোক আমরা যুদ্ধ সমর্থন করি না। কারণ যাই হোক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে আমরা মনে করি। এটাই সরকার ও আওয়ামী লীগের নীতি। রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা তারা করতে পারে। এখন অনেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করছে। কিন্তু তখন বলেছিল এরাও মুসলমান, এদের আশ্রয় দেওয়া দরকার। আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের তখন আশ্রয় দিয়েছিলাম। এর কনসিকোয়েন্সটা(পরিণতি) কি, সামাজিক সমস্যা, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এর জন্য আমাদের অনেক মুল্য দিতে হবে। এখন আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে কী কারণে নিরপেক্ষ অবস্থান নিচ্ছি, এর যৌক্তিকতা কী সেটা সময়ই বলে দেবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন ইন্যুতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি মনে করে দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত জনমত গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার বিষয়ক মূল স্রোতের সঙ্গে মিশে আছে। কিন্তু দেশের ক্ষমতাসীন সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দেশবাসীর জনমতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত থেকেছে। যা বাংলাদেশের সংবিধান ঘোষিত গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধের নীতিমালা পরিপন্থী। ’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিএনপি যে সমালোচনা করছে, সেটা তারা করতে পারে না। এটা ঠিক হয়নি, অন্যায় হয়েছে। আমি মনে করি সরকারের অবস্থান সঠিক। কারণ জাতিসংঘ নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব এনেছিল, যুদ্ধ বন্ধের জন্য নয়। নিন্দা জানালে যুদ্ধ বন্ধ হবে না।
এ বিষয়টি সম্পর্কে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি তো দেশবিরোধী রাজনৈতিক দল। তারা দেশের স্বার্থে কথা বলে না। তারা মনে করে দেশ রসাতলে যাক। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, কারো সঙ্গে শত্রুতা চাই না, এটা আমাদের রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি। এই ইস্যুতে সরকার সঠিক অবস্থান নিয়েছে, শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।