পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সীতাকু-ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৫০ হাজার বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে ২০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরের ৫০ হাজার চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীতাকু- উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ও মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সমবায়, যুব উন্নয়ন ও নারী কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে এসব চারা তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ জুলাই সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়ে ছিল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ কর্মসূচিকে সফল করতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন চলতি বছরের জন্য উপজেলায় ৫০ হাজার বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার, মোট ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ফলজ, বনজ ও ঔষধি বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মাধ্যমে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করা হবে। শুধু চারা বিতরণ নয়, রোপণের পর সেগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি একটি দূরদর্শী ও সময়াপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন ৫০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না, প্রতিটি চারাকে পরিচর্যা করে বড় বৃক্ষে পরিণত করতে হবে। তাহলেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।
সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, এটি পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
তিনি বলেন, এই বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচিকে সীতাকুণ্ডের সামাজিক শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন চলতি বছর ৫০ হাজার বৃক্ষের চারা রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে। আজ আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণের মাধ্যমে চলতি বছরের ৫০ হাজার চারা বিতরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলো।
সরোয়ার লাভলু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জনাব তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্প’ একটি বিশাল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে বৃক্ষরোপণের একটি করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সীতাকুণ্ড থেকে ৫০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগ সংখ্যার দিক থেকে হয়তো জাতীয় লক্ষ্যের তুলনায় ছোট, কিন্তু জাতীয় কর্মসূচির বাস্তবায়ন এমন অসংখ্য স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী আজ নানা ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণ করাও জরুরি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সীতাকু-ে ৫০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে ছিল। ইতোমধ্যে ২০ হাজার চারা বিতরণ করা হয়েছে এবং আজ ৩০ হাজার চারা বিতরণের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি চারা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর প্রতি প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান।
সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সীতাকু-ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃৃত করা প্রয়োজন। সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে ৫০ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট একটি মৌসুমে গাছ লাগানোর মধ্যে কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, একটি গাছ লাগানোর চেয়ে গাছটি বাঁচিয়ে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারা গ্রহণকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব¡ নিতে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ দেশ হিসেবে গড়া তোলার দায়িত্ব¡ আমাদের সবার। বৃক্ষরোপণ সেই দায়িত্ব¡ পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরো বক্তব্য রাখেন মহসিন ফাতেমা সিদ্দিকী সমাজকল্যাণ সংস্থার (এমএফএসএস) সভাপতি কাউছার আহমেদ সরোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক তাইছির উদ্দীন, সীতাকু- উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন সহ-সভাপতি আলহাজ¦ খোরশেদ আলম, মোঃ মনজুর মোরশেদ চৌধুরী, আলহাজ¦ এ কে এম মসিউদদৌলা, এমওএইচ কাইউম, জেসমিন আকতার, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, মোঃ সোহেল, লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামরুদ্দোজা, আলহাজ¦ মোঃ শাহনেওয়াজ, আলহাজ¦ অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী, আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক, মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ আবু তাহের, নুর খান, বখতেয়ার উদ্দিনসহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ তিনশতাধিক সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১৭০ টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ তিন শতাধিক সমাজকর্মী অংশ নেন।
বক্তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি চারা একটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষ, আর প্রতিটি বৃক্ষ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর প্রতীক।