ঢাকা, শুক্রবার ১২ অগাস্ট ২০২২, ২৮শে শ্রাবণ ১৪২৯

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কমনওয়েলথ দেশগুলোর জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ৪ অগাস্ট ২০২২ ০৬:৩১:০০ অপরাহ্ন | জাতীয়

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর আরো জোরালো ভূমিকা নিতে অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ৷

বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট ) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সেক্রেটারি জেনারেল মি. স্টিফেন টুইগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় একথা বলেন।  

সাক্ষাৎকালে তাঁরা গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তিসহ সিপিএ-এর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণসহ গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সিপিএ এর সঙ্গে আরো জোরালো কার্যক্রম গ্রহণ করতে চায়। এসকল ইস্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সিপিএ-এর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশ সিপিএ-এর সদস্যভুক্ত হয়েছে।  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আগামী বছর পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সিপিএ-এর সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যেখানে সিপিএভুক্ত পার্লামেন্টহগুলোর স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন স্পিকার।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তা অনুসরণযোগ্য। সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের এসব অর্জন থেকে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো দিকনির্দেশনা পেতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তঃপার্লামেন্ট যোগাযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। সংসদ সদস্যদেরকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রসারে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মাঝে সংযোগ বাড়লেও এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে সিপিএ-এর কাজের বিষয়ে মি. স্টিফেন টুইগ আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার সিপিএ-কে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর আরো জোরালো ভূমিকা নেওয়া উচিৎ উল্লেখ করে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য তিনি সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ করেন।

মি. স্টিফেন টুইগ এমডিজি ও তৎপরবর্তী এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সফলতার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের কাছে সমগ্র বিশ্বের অনেক কিছু শেখার আছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। তাই সিপিএ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে আগ্রহী। বিশেষ করে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ যেভাবে সফল হচ্ছে, সেখান থেকে কমনওয়েলথভুক্ত ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে পারে। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পঞ্চাশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানমালায় সিপিএ-এর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠককালে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম ও যুগ্ম-সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।