অর্থনীতি ও বাণিজ্য

গ্যাস সংকটে বন্ধ, ৮ মাস পর ইউরিয়া উৎপাদন শুরু

গ্যাস সংকটে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ থাকার পর জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ফের ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১০-এর দিকে দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে টানা আট মাস বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এরপর ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় চাপ না থানায় সার উৎপাদন করতে পারিনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। সার উৎপাদন না করতে পারলেও দিনে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাস পুড়েছে কারখানা।

 

 

ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কারখানার সংশ্লিষ্টরা। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সার কারখানাটির দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১,০৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে এটি দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহে এ কারখানাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

 

দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সার সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। এ ব্যাপারে তারাকান্দি যমুনা সার কারখানার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার জানান, গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিক -কর্মচারী, পরিবহনসহ পুরো এলাকায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। তাদের কষ্টে বিষয়টি বিবেচনা করে জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও বিসিআইসির চেয়ারম্যান এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় যমুনায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু গেলো। যমুনা সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। এ উৎপাদনে সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 



সম্পর্কিত খবর