“দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের প্রতিনিয়ত হুমকি ও বাধা প্রদান করা হচ্ছে।” আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। আমাদের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি একজন নারী কর্মীকে বাড়িছাড়া করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের বলছেন, ভোট দিয়ে তাঁদের দেখাতে হবে। এমন অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। গত নির্বাচনে মাগুরাতে আমরা একই বিষয় দেখেছি এবং মাগুরা মার্কা সে নির্বাচনেরই প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। তাই আমরা বলতে চাই, একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অগ্নিগর্ভ করে তুলবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান এখন পরিণত হয়েছে ‘সবার আগে বিএনপি’-তে। সব কিছুতেই দলীয়করণ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করেছেন, যার সবগুলোই বিএনপি-পন্থী। দু-একজন অন্য দলের হলো না কেন? ৬৪ জেলায় ডিসি হিসেবে যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সবাই যুবদল ও সাবেক ছাত্রদল নেতা। এটা হচ্ছে নির্লজ্জ দলীয়করণ।”
নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আব্দুল হালিম বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ৭টি জেলায় শতভাগ এবং ৯টি জেলায় ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসন পেয়েছে। আমরা ভোটে সমৃদ্ধ একটি বিরোধী দল। কেন আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? তেল, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি—এ সংকট কেন হবে? ভোটের আগে আপনারা জনগণকে কী আশ্বাস দিয়েছেন আর এখন করছেন কী? আমরা লংমার্চ করছি; অনেকেই ভুলভাবে ভাবছেন এটি সরকার পতনের জন্য। কিন্তু না, আমরা অধিকার আদায় ও গণজাগরণের জন্য লংমার্চ করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, সাবেক দিনাজপুর জেলা আমীর আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান ও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরসহ স্থানীয় নেতারা। তাঁরা এসব অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।