টপ নিউজ

বৈঠকে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যে এক বৈঠকেই প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ক্রয় ও ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকার ফুয়েল পেমেন্ট, আট কার্গো এলএনজি আমদানি, ২০০ ইলেকট্রিক বাস কেনা, রাশিয়া থেকে সার আমদানি, রংপুর মহাসড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় এবং ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ।

 

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় অনুমোদন এসেছে বিদ্যুৎ খাতে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেড এবং বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোল প্রাইস মেকানিজম সংশোধনের মাধ্যমে ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এসএস পাওয়ার-১ পাবে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবে প্রায় ৩২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। জ্বালানি খাতেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং দেশে গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

পরিবহন খাতে সবুজ রূপান্তরের অংশ হিসেবে বিআরটিসির জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস, চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা। একই বৈঠকে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ১১টি প্যাকেজে ভেরিয়েশন অর্ডার অনুমোদনের ফলে প্রকল্প ব্যয় আরও প্রায় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত নির্মাণকাজ, নকশা পরিবর্তন এবং বাস্তব চাহিদার কারণে এ ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

 

 

শিক্ষা খাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনা মূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ৯৪৮ কোটি টাকার ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের কোটি কোটি বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এক বৈঠকে এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনুমোদন দেশের রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

 



সম্পর্কিত খবর