অর্থনীতি ও বাণিজ্য

১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য আজ রবিবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বিইআরসি। নতুন করে ১২ কেজি এলজির সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।

এদিকে, বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা করার চেষ্টা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এলপিজির মজুত ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি হয়েছে। তাহলে বাজারে সংকট কেন এবং কেনই বা বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে- এ বিষয়ে লোটাব নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা জানান, এলপিজির দাম বাড়ানো হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপারেটররা রোববার থেকেই এলপিজির দাম এক দফায় বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। দাম বাড়ানো হলে আমদানিতে তাদের সুবিধা হবে বলেও তারা মনে করেন। এ বিষয়ে বিইআরসি তাদের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়াচ্ছে না- বৈঠকে এমন অভিযোগও করা হয়।

 

সূত্র জানায়, ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই বাজারে এলপিজির সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি আমদানির খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে এ সুযোগে কয়েকটি অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কিছু অপারেটর আগেভাগেই তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে। আবার কেউ কেউ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে এলপিজিবাহী জাহাজ অবস্থান করিয়ে রেখেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 



সম্পর্কিত খবর