টপ নিউজ

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন পেছাচ্ছে

যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সহসাই উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে উৎপাদনে যাওয়ার পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা আটকে গেছে।

তবে সমস্যাটি কবে নাগাদ সমাধান হবে এবং উৎপাদন কবে শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পর আগস্টের শেষ অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার কথা ছিল।

 

 

কিন্তু গত ৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, ইউনিটটির দুটি সেফটি ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে না। এ কারণে পরবর্তী ‘সি’ স্টেজে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে যন্ত্রাংশের সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেটি দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অংশ। এটি পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা প্রেশারাইজার সেফটি রিলিফ ভালভ নামে পরিচিত।

 

চুল্লির প্রাথমিক শীতলীকরণ ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এর প্রধান কাজ।

চাপ নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে উচ্চচাপের বাষ্প রিলিফ ট্যাংকে ছেড়ে দেয়। চাপ নিরাপদ মাত্রায় নেমে এলে ভালভ বন্ধ হয়ে যায়। পরীক্ষার সময় এ ধরনের দুটি ভালভ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে না বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য ছিল। বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা চালিয়ে ‘বি’ স্টেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাচ্ছে না।

 

সেফটি ভালভের মেরামত কবে শেষ হবে এবং প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কবে শুরু হতে পারে, এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি। তিনি জানান, ভালভ কেন কাজ করছে না, তা নির্ধারণে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সমস্যা সমাধানের কাজও চলছে। প্রয়োজনে ভালভ মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

সূত্রগুলো জানায়, সেফটি ভালভের সমস্যা ছাড়া উৎপাদনে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সমস্যা সমাধানের পর ধারাবাহিকভাবে ২৬টি পরীক্ষা চালানো হবে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

 

তবে সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধান ও পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হতে কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে না বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার পর চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে সেই সময়সূচি পিছিয়ে যাচ্ছে।

 

রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ অ্যাটমস্ট্রয়।

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও শেষ পর্যায়ে। আগামী বছর এ ইউনিটে ফুয়েল লোড করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিটেই রাশিয়ার ৩ জি প্লাস ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট; অর্থাৎ দুটি ইউনিট থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

 



সম্পর্কিত খবর