ঢাকা, মঙ্গলবার ৫ মার্চ ২০২৪, ২২শে ফাল্গুন ১৪৩০
নাড়া খাইছে রাজনীতির পাগলা হাওয়ায়

সরিষাবাড়ীতে তৃণমূলের শেষ ভরসা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল

কামরুল হাসান, জামালপুর: | প্রকাশের সময় : সোমবার ২০ নভেম্বর ২০২৩ ০৭:২০:০০ অপরাহ্ন | দেশের খবর

 ‘যদি থাকে নসিবে ঘুরে ঘুরে আসিবে।’ বিখ্যাত সেই লোক গানটির সুর ধরেই লিখছি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ-১৪১ (জামালপুর-৪) সরিষাবাড়ী আসনে এমপি পদের জন্য এ উপজেলার একাধিক আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি ডা. মুরাদ হাসান, ছানোয়ার হোসেন বাদশা, অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল, আনিছুর রহমান এলিন ও ফজলুল হকসহ অনেকেই। সরিষাবাড়ীর রাজনীতির মাঠে প্রথম দিকে ডা. মুরাদ হাসান, ছানোয়ার হোসেন বাদশা, অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ ও ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল এর নাম বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। দিন যতই গড়িয়ে যাচ্ছে পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে নামগুলোর সংখ্যা ততই কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর থেকে উৎসুক নেতা, কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারসহ নানা মহলে অধীর আগ্রহের যেন শেষ নেই। কে হচ্ছেন এ আসনের নৌকার কান্ডারী! রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় পরিবেশ ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরিষাবাড়ীর রাজনীতির মাঠে ছানোয়ার হোসেন বাদশা ও ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল এর নাম ছাড়া অন্য কোন নাম নেই বললেই চলে। এর আসল কারণটা প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংগঠনিক নেতা, নীতি-নির্ধারকগণই বলতে পারবেন। তবে সরিষাবাড়ীতে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও ভোটারসহ সকল স্তরের লোকজনের এখন শেষ ভরসা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল।

তবে রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। এতে পালাবদল আছে, থাকবেও। এ পালাবদলের ধারাবাহিকতায়ই উত্থান-পতন ঘটে থাকে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পালাবদল, উত্থান-পতন ও সমসাময়িক পরিস্থিতিসহ নেতৃত্বের গুণাবলিই নির্ধারণ করে কে টিকে থাকবে আর কে টিকে থাকবে না। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক গুরু, নীতি-নির্ধারক ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দিক নির্দেশনা অনেকটা টনিকের মতো কাজ করে বৈ কি। সর্বোপরি তো দলের প্রধান রয়েছেনই। এর আগে অবশ্যই সকল নেতাকেই রাজনৈতিক পরীক্ষায় তৃণমূল নেতা-কর্মী, ভোটার ও সাধারণ জনগণের ভোটে বা রায়ে বা সমর্থনে পাশ করে আসতে হয়। অর্থাৎ তাদের মণি কোঠায় স্থান দখল করে নিতে হয়। সেই সাথে তাদের শেষ ভরসার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিতও হতে হয়। তা না হলে-সবই শেষ। তবে বাংলা প্রাবাদে আছে- পুরান চালে ভাত বাড়ে।’ এ কথাটি চালু থাকলেও রাজনীতির সকল ক্ষেত্র ও সকল পরিস্থিতিতে সকল ব্যক্তি বা সকল নেতার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নাও হতে পারে। হাল ফ্যাশনের এ যুগে তৃণমূল নেতা-কর্মী, ভোটার ও সাধারণ জনগণের কাছে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুরাতন বা নতুন তা ফ্যাক্টর নয়। তারা চায় সময়োপযোগী যোগ্য নেতা। যার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, সাহসীকতা ও চিন্তা-চেতনা দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে। সুতরাং- সমসাময়িক নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে দেখাও যাচ্ছে তাই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় সরকারের মান দন্ডই হলো- ডেমোক্রেটিক গভার্ণমেন্ট ইজ দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, অব দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল অর্থাৎ ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকার জনগণ, জনগণের দ্বারা, জনগণের ও জনগণের জন্য’ এই নীতির উপর নির্ভরশীল। নেতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অবশ্যই এ নীতি মেনে চলতে হয়। এর অন্যথা হলেই গনতান্ত্রিক মনোভাবের হ্রাস পায়। আর তখনই ঘটে যত বিপত্তি। ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। এক সময় এ সমালোচনাই কাল হয়ে দাড়ায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গিয়ে পড়ে- ব্যক্তি (নেতা) থেকে দলে। আর এ দল থেকে দেশ তথা জাতীয় পর্যায়ে। তাই নেতা তথা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অধিকতর যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকেই মনোনীত করা উচিত।

জাতীয় সংসদ-১৪১, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) এ আসনটি  আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কেউ ছাড় দিতে রাজি নয়। তাই এটি একটি রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ আসন। একদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সহচর, সরিষাবাড়ী আওয়ামীলীগের দুর্দিনের কান্ডারী, দুই দুই বারের নির্বাচিত এমপি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘ দিনের সফল সভাপতি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক এমপি’র সুযোগ্য সন্তান ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলাল। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও এ আসনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে প্রস্তুত। তাই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এ আসনে নৌকার মনোনয়নের জন্য তাদের শেষ ভরসা ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান হেলালকেই চায়।