কাজের সন্ধানে বের হয়েছিলেন কয়েকজন দিনমজুর। সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিলেন তারা। হঠাৎই একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয় তাদের। এতে প্রাণ হারান সাতজন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় দুর্ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বাসযোগে কেউ কাজে আবার কেউ যাচ্ছিলেন প্রিয়জনের কাছে। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! প্রিয়জনের কাছে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুই বাসের সংঘর্ষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৯ জন। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার খাসিকাপন এলাকায় এই দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দুটি বড় দুর্ঘটনায় এতগুলো প্রাণহানি রক্তভেজা সড়কে এখন শুধুই কান্না।
বগুড়া প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে আঘাত করে। এ সময় সেখানে কাজের সন্ধানে অনেক শ্রমিক অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি শ্রমিকদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো চারজন মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—বগুড়ার বেলাল হোসেন (৩৭), গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৪৫), নূর আলম (৩৫), ফয়জার রহমান (৪৩) ও আবদুর রহিম (৪৬) ও জয়পুরহাটের তাজমুল (৪৫)।
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ : অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের একটি বাস দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। তিনি আরও জানান, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও একই বাসের যাত্রী। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে দুই বাসের সংঘর্ষের পর হতাহতদের অবস্থা দেখে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার জন্য তারা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করছেন।