গাজীপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে দালালনির্ভর সেবা, ঘুষ আদায়, গ্রাহক হয়রানি ও দাপ্তরিক কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে, সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফজাল, রুহুল ও কমল নামের কয়েকজনের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। ফিটনেস পরীক্ষার বিশেষ অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উচ্চমান সহকারী মারনুজ রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা এবং বহিরাগতদের দিয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহকারী স্বপন হোসেনের বিরুদ্ধে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের ফাইল এগিয়ে দেওয়ার নামে টাকা দাবি এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেবায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ মিললে কিংবা সংবাদ প্রকাশিত হলেও তিনি বরাবরই তা ‘কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র’ দাবি করে পার পেয়ে যান বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের ফাইল নিয়ে ভোগান্তির একপর্যায়ে স্বপন হোসেন তাঁদের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তাঁরা ঢাকার সংশ্লিষ্ট প্রধান কার্যালয় থেকে কার্যক্রম শেষ করে অনুদানের চেক সংগ্রহ করেন। তবে স্বপন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইভাবে মাহফুজুর রহমানও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ষড়যন্ত বলে দাবি করেছেন।
বিআরটিএ কার্যালয়ের এ ধরনের সেবাব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যানবাহনের মালিক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
একটি বাসের মালিক মো. মিরাজ মিয়া বলেন, “গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে গেলে মনে হয় এটি ঘুষ আর অনিয়মের আখড়া। এখানে নিয়ম মেনে কাজ করাতে গেলেও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। টাকা ছাড়া যেন কোনো কাজই এগোতে চায় না। গাড়ির কাগজপত্রের কাজ করতে এসে একজন মালিককে যদি প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ সেবা পাবে কীভাবে! এই অনিয়ম বন্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
গাজীপুর সিএনজি মালিক সমিতির নেতা মো. মিলন মিয়া বলেন, “গাজীপুর বিআরটিএ-তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, সেবা নিতে গেলে মনে হয় নিঃশ্বাস নিতেও টাকা দিতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ না দিলে অনেক সময় কাজ করানোই কঠিন হয়ে পড়ে। গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন কাজে মালিকদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা চাই এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দালালনির্ভরতা বন্ধ হোক এবং ঘুষ-অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব বরাবর এ বিষয়ে মো. আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।