দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্সে নয়, সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব। সহনীয় পর্যায়ে এনে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করেছিলেন। সেটিই বাস্তবায়ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।"
পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রশাসনিক ভবনের ৬ তলা ভিতের (ফাউন্ডেশন) ৩ তলা অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ফরহাদ হোসেন আজাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব।
তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একনেক বৈঠকে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হবে।"
উন্নয়ন কাজের অনিয়ম প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এলজিইডি স্কুল, কলেজ, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছে। এর আগে বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি এলাকায় একটি সেতু উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখা যায় সেতুর প্রস্থ ১৮ ফুট হলেও সংযোগ সড়কটি মাত্র ১২ ফুট। এমনকি সেতু পার হওয়ার পর আর কোনো রাস্তা নেই! বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা এ ধরনের অনিয়ম করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।"
নবনির্বাচিত ভবন সম্পর্কে তিনি বলেন, এই প্রশাসনিক ভবনটি নির্মিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, যা জেলার ৫টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা আনবে।
৩ কোটি ৩৯ লাখ ৭ হাজার ১১৭ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করছে পঞ্চগড়ের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং বাস্তবায়নে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা এলজিইডি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সফিউল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, এলজিইডির কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ জুন এই অবকাঠামোর উদ্বোধনের জন্য ভিত্তিফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। সেখানে উদ্বোধক হিসেবে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নাম থাকলেও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়।